যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে জামিলের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহর নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া একই বয়সের নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হদিস মেলেনি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকা থেকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-ইউএসএফের পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের দফতর জানায়, শুক্রবার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি ২৭ বছর বয়সি জামিল লিমনের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডির শিক্ষার্থী। গত ১৭ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন।

এদিকে শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত । শনিবার (২৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার বোন আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”

নিখোঁজের একদিন আগে তাদের দুজনকে আলাদাভাবে শেষবার দেখা গেছে। বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাকে খুঁজে বের করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, লিমনের হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ তার নাম শুধু হিশাম আবুঘরবেহ বলে উল্লেখ করেছে। তার বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্ট করা এবং অনুমোদনহীনভাবে মরদেহ সরানো বা লুকানোর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।

শেরিফের দফতরের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লিমন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তি একই বাসায় রুমমেট হিসেবে থাকতেন। তবে বৃষ্টি ওই বাসায় থাকতেন না।

শেরিফের দফতর জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হিশামের বিরুদ্ধে ছয়টি সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক সহিংসতা, সাধারণ প্রহার, কাউকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা, কারও মৃত্যু সংবাদ পুলিশকে না জানানো এবং বেআইনিভাবে মৃতদেহ সরানো বা নাড়াচাড়া করা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হিশাম ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইউএসএফ-এর ম্যানেজমেন্ট বিভাগে বিএসসি কোর্সে পড়তেন, তবে বর্তমানে তিনি শিক্ষার্থী নন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে একটি অ্যাপার্টমেন্টে লিমনের সাথে রুমমেট হিসেবে থাকতেন।

এদিকে লিমনের পর বৃষ্টির মৃত্যুর খবরে নিহতের পরিবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তাদের সহপাঠী ও স্বজনরা।